প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আনসারী, ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’

কিছু সুর কানে এসে থামে না, ছুঁয়ে যায় হৃদয়। কিছু দৃশ্য কেবল চোখে দেখা হয় না, অনুভূতিতে জায়গা করে নেয়। কিছু মুহূর্ত সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের স্মৃতি ও আবেগের অংশ হয়ে থাকে। আর কিছু উপমা হয়ে ওঠে একটি সময়ের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। তেমনই এক আবেগঘন উপমায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনভর কর্মসূচির বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার পালা।’ ছোট্ট এই বাক্যে যেন একসঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের দায়িত্ব আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) যেন ইতিহাস, আবেগ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের এক সুতোয় গাঁথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচি। দিনের শুরুতেই তিনি ছুটে যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে। তাদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের যাত্রা শুরু করেন। পেছনে ফেলে আসা ইতিহাস, রাজনৈতিক সংগ্রাম আর উত্তরাধিকারের স্মৃতিবিজড়িত সেই মুহূর্তের পর তিনি যোগ দেন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে। এরপর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে রাজপথে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনের প্রতিটি কর্মসূচির আলাদা তাৎপর্য থাকলেও সবকিছুর মধ্যে যেন একটি অভিন্ন সুর- ইতিহাসের শেকড়, মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যয়। কখনো শ্রদ্ধায় অবনত, কখনো মানুষের কাছাকাছি, আবার কখনো রাজপথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পা মেলানো- প্রধানমন্ত্রীর এসব মুহূর্তের ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

ভিডিওগুলোর সঙ্গে দেওয়া তার সংক্ষিপ্ত ক্যাপশনটি বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি তারেক রহমানকে অভিহিত করেছেন ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’ হিসেবে। বাঁশির সুর যেমন অদৃশ্য এক বন্ধনে মানুষকে কাছে টানে, তেমনি এই উপমার মধ্যেও রয়েছে নেতৃত্ব, ঐক্য, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতীকী ব্যঞ্জনা। আর সেই সুরের সঙ্গে তিনি জুড়ে দিয়েছেন দুটি বড় দায়িত্ব- সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং উন্নত রাষ্ট্র গঠন।

‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’- শব্দবন্ধটি তাই কেবল একটি প্রশংসাসূচক উপমা হিসেবেই নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তার প্রতীক হিসেবেও সামনে এসেছে। যে বাংলাদেশের স্বপ্নে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে, যে বাংলাদেশে উন্নয়ন হবে মানুষের জীবনের পরিবর্তনের উপলক্ষ, যে রাষ্ট্রের পরিচয় হবে আত্মমর্যাদা, সক্ষমতা ও সমৃদ্ধি- ক্যাপশনের শেষাংশে সেই প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরেছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত থেকে শুরু করে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ, তারপর রাজপথের র‍্যালি- এক দিনের এই কর্মসূচির দৃশ্যগুলো যেন অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করেছে। একদিকে ইতিহাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে দিনটির কর্মসূচি ও রাষ্ট্রদূতের ক্যাপশন নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার জায়গাটি।

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর ক্যাপশনে তাই প্রশ্নটি যেন নিজেই ফিরে আসে- কে এই বাঁশিওয়ালা? তার দেওয়া উপমার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকেই। তবে এই উপমার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া প্রত্যাশা- বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখা, রাষ্ট্রের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ গড়ে তোলা।

কারণ দিনশেষে একটি দেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালানো। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই উচ্চারিত হয়েছে রাষ্ট্রদূতের সেই ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পঙ্‌ক্তি- ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার পালা।’

Comments

One response to “প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আনসারী, ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’”

  1. A WordPress Commenter Avatar

    Hi, this is a comment.
    To get started with moderating, editing, and deleting comments, please visit the Comments screen in the dashboard.
    Commenter avatars come from Gravatar.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *