Author: amkdn24editor

  • আজান শুনেই বক্তব্য থামালেন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা করলেন ৬ মিনিট

    আজান শুনেই বক্তব্য থামালেন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা করলেন ৬ মিনিট

    গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মসজিদ থেকে ভেসে আসে জোহরের আজান। সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্য থামিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ডায়াসে দাঁড়িয়েই ছয় মিনিট নীরবে অপেক্ষা করেন তিনি। আজান শেষ হওয়ার পর আবারও বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে এ ঘটনা ঘটে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুরুতে দেশের আট বিভাগের শ্রেষ্ঠ আটজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন তিনি। পরে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডায়াসে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর বক্তব্য শুরু করতে যান তিনি।

    এ সময় পাশের একটি মসজিদ থেকে জোহরের আজান ভেসে আসে। ঘড়িতে তখন দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট। আজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তারেক রহমান। ডায়াসে দাঁড়িয়েই নীরবে অপেক্ষা করেন তিনি। প্রায় ছয় মিনিট পর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আজান শেষ হলে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪০ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে গ্রাম পুলিশের বেতন, আনুতোষিক ও যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জন্য মোবাইল ভাতা চালুর কথাও জানান তিনি।

    নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন তারেক রহমান। এ ছাড়া নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার কথাও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নামকরণ করা হবে ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’। বর্তমানে পাঁচ বছর পরপর গ্রাম পুলিশ সদস্যদের একটি করে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময়সীমা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আনসারী, ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’

    প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আনসারী, ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’

    কিছু সুর কানে এসে থামে না, ছুঁয়ে যায় হৃদয়। কিছু দৃশ্য কেবল চোখে দেখা হয় না, অনুভূতিতে জায়গা করে নেয়। কিছু মুহূর্ত সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের স্মৃতি ও আবেগের অংশ হয়ে থাকে। আর কিছু উপমা হয়ে ওঠে একটি সময়ের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। তেমনই এক আবেগঘন উপমায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনভর কর্মসূচির বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার পালা।’ ছোট্ট এই বাক্যে যেন একসঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের দায়িত্ব আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা।

    শনিবার (৭ নভেম্বর) যেন ইতিহাস, আবেগ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের এক সুতোয় গাঁথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচি। দিনের শুরুতেই তিনি ছুটে যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে। তাদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের যাত্রা শুরু করেন। পেছনে ফেলে আসা ইতিহাস, রাজনৈতিক সংগ্রাম আর উত্তরাধিকারের স্মৃতিবিজড়িত সেই মুহূর্তের পর তিনি যোগ দেন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে। এরপর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে রাজপথে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

    দিনের প্রতিটি কর্মসূচির আলাদা তাৎপর্য থাকলেও সবকিছুর মধ্যে যেন একটি অভিন্ন সুর- ইতিহাসের শেকড়, মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যয়। কখনো শ্রদ্ধায় অবনত, কখনো মানুষের কাছাকাছি, আবার কখনো রাজপথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পা মেলানো- প্রধানমন্ত্রীর এসব মুহূর্তের ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

    ভিডিওগুলোর সঙ্গে দেওয়া তার সংক্ষিপ্ত ক্যাপশনটি বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি তারেক রহমানকে অভিহিত করেছেন ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’ হিসেবে। বাঁশির সুর যেমন অদৃশ্য এক বন্ধনে মানুষকে কাছে টানে, তেমনি এই উপমার মধ্যেও রয়েছে নেতৃত্ব, ঐক্য, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতীকী ব্যঞ্জনা। আর সেই সুরের সঙ্গে তিনি জুড়ে দিয়েছেন দুটি বড় দায়িত্ব- সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং উন্নত রাষ্ট্র গঠন।

    ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা’- শব্দবন্ধটি তাই কেবল একটি প্রশংসাসূচক উপমা হিসেবেই নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তার প্রতীক হিসেবেও সামনে এসেছে। যে বাংলাদেশের স্বপ্নে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে, যে বাংলাদেশে উন্নয়ন হবে মানুষের জীবনের পরিবর্তনের উপলক্ষ, যে রাষ্ট্রের পরিচয় হবে আত্মমর্যাদা, সক্ষমতা ও সমৃদ্ধি- ক্যাপশনের শেষাংশে সেই প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরেছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত থেকে শুরু করে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ, তারপর রাজপথের র‍্যালি- এক দিনের এই কর্মসূচির দৃশ্যগুলো যেন অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করেছে। একদিকে ইতিহাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে দিনটির কর্মসূচি ও রাষ্ট্রদূতের ক্যাপশন নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার জায়গাটি।

    রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর ক্যাপশনে তাই প্রশ্নটি যেন নিজেই ফিরে আসে- কে এই বাঁশিওয়ালা? তার দেওয়া উপমার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকেই। তবে এই উপমার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া প্রত্যাশা- বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখা, রাষ্ট্রের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ গড়ে তোলা।

    কারণ দিনশেষে একটি দেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালানো। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই উচ্চারিত হয়েছে রাষ্ট্রদূতের সেই ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পঙ্‌ক্তি- ‘বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার পালা।’